মায়ামিতে কুতিনিও মেসির সতীর্থ হচ্ছেন


ইউনাইটেড স্টেটসের ফুটবল মৌসুমে, লাওনেল মেসি সহ তার আগের বার্সেলোনা সহকারী টিম সদস্য সের্হিও বুসকেতস এবং জর্দি আলবা ইন্টার মায়ামি তে যোগ দিয়েছেন। ডিসেম্বরে, মেসি, বুসকেতস এবং আলবা একই দলে এসেছেন বার্সেলোনায় অপর সাবেক ফুটবলার লুইস সুয়ারেজের সঙ্গে ইন্টার মায়ামি তে। এখন, ফিলিপে কুতিনিও মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) সাথে যোগ দিতে চলেছেন, এটি স্প্যানিশ খেলার দৈনিক ‘এএস’ জানিয়েছে।

৩১ বছর বয়সী কুতিনিওর বর্তমান ক্লাব অ্যাস্টন ভিলা তাঁকে গত সেপ্টেম্বরে ধারে কাতারি ক্লাব আল দুহাইলে পাঠিয়েছিল। সেই ধারের মেযাদ কিছু দিন আগে শেষ হয়েছে। আল দুহাইল চাইলে কুতিনিওকে কিনেও নিতে পারে—এমন সুযোগও রেখেছিল অ্যাস্টন ভিলা।

তবে ক্লাবটিতে প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারেননি ব্রাজিলের এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার। দোহার ক্লাবটিতে খেলতে যাওয়ার পর কাতার স্টারস লিগে (কিউএসএল) মাত্র ছয় ম্যাচে মাঠে নামার সুযোগ পেয়েছেন। লিগে সব মিলিয়ে ৪১৯ মিনিট খেলে গোল ২টি। এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগে তিন ম্যাচে ২টি গোল ও ১টি অ্যাসিস্ট করলেও দলের কোনো কাজে আসেনি। গ্রুপ পর্ব থেকেই ছিটকে পড়েছে আল দুহাইল।

আল দুহাইলে নজর কাড়তে না পারায় ধারের মেয়াদ শেষে কুতিনিওকে মূল ক্লাব অ্যাস্টন ভিলায় ফিরে যেতে বলা হয়। তবে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ২০২৩–২৪ মৌসুমে চমক দেখিয়ে চলা (বর্তমানে পয়েন্ট তালিকার দুইয়ে আছে) ভিলার কোচ উনাই এমেরির পরিকল্পনায় তিনি নেই। ‘এএস’ প্রতিবেদনে লিখেছে, উনাই এমেরি কুতিনিওকে ভিলার স্কোয়াডে রাখতে চান না। বরং অন্য আরেকটি ক্লাবে ধারে পাঠাতে চান।

আলোচনা করার পরে যেসব সংবাদমাধ্যমে এমএলএসের দুটি ক্লাবের নাম উল্লেখ হয়েছে—ইন্টার মায়ামি এবং লস অ্যাঞ্জেলেস গ্যালাক্সি। মায়ামিতে সাবেক বার্সা সতীর্থ মেসি–সুয়ারেজ রয়েছে, তাই সেখানেই কুতিনিওর যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে, মায়ামি কুতিনিওকে অ্যাস্টন ভিলার কাছ থেকে ধারে নিবে নাকি একবারে ছাড়িয়ে নিবে, সে বিষয়ে কিছু জানায়নি সংবাদমাধ্যমটি।

মায়ামি অবশ্য চাইলেই কুতিনিওকে কিনতে পারবে। কারণ, সম্প্রতি মায়ামি ছেড়ে এমএলএসের আরেক ক্লাব পোর্টল্যান্ড টিম্বার্সে নাম লিখিয়েছেন কানাডিয়ান ফুটবলার কামাল মিলার। মিলার চলে যাওয়ায় একজন বিদেশি ফুটবলারের জায়গা খালি হয়েছে। ডেভিড বেকহামের মালিকানাধীন ক্লাবটি তাই চাইলেই ব্রাজিলিয়ান কুতিনিওকে কিনে নিয়ে বিদেশি ফুটবলারের জায়গা পূরণ করতে পারবে।

ক্যারিয়ারের সেরা ছন্দে থাকতেই লিভারপুল ছেড়ে বার্সেলোনায় গিয়েছিলেন ফিলিপে কুতিনিও। লিভারপুলের হয়ে পাঁচ বছরেও কোনো শিরোপা জিততে না পারাতেই মূলত বার্সায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

২০১৮ সালে ১৩ কোটি ৫০ লাখ ইউরোয় তাঁকে লিভারপুলের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নেয় বার্সা। কিন্তু কাতালান ক্লাবটির খেলার ধরণ ও ফুটবলীয় সংস্কৃতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেননি। চোটও তাঁর ক্যারিয়ারে থাবা বসাতে শুরু করে। হাঁটুতে তিন–তিনবার অস্ত্রোপচার করাতে হয়। সুস্থ হয়ে ফিরলেও পুরোনো ছন্দ ফিরে পাননি।

বার্সায় থাকাকালে বায়ার্ন মিউনিখ ও অ্যাস্টন ভিলায় ধারে খেলতে যান কুতিনিও। ২০২২ সালে ভিলা তাঁকে ২ কোটি ইউরোয় বার্সার কাছ থেকে কিনে নেয়। ইংল্যান্ডের ফুটবলে ফেরার পরও চোট আর ছন্দহীনতায় ভুগতে থাকেন। একপর্যায়ে কোচ এমেরির পরিকল্পনার থেকেও বাদ পড়েন। জাতীয় দল ব্রাজিলেও তিনি ব্রাত্য হয়ে পড়েন। দেশের জার্সিতে তাঁকে সর্বশেষ দেখা গেছে ২০২২ সালে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top